দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আমদানি বিল পরিশোধ বা এলসি নিষ্পত্তিতে ডলারের দর ১২৩ টাকা ছাড়িয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে এলসি নিষ্পত্তিতে প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১২৩ টাকা ৪০ পয়সা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে।
ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত সপ্তাহের তুলনায় এলসি নিষ্পত্তিতে ডলারের দর ২৫ থেকে ৪০ পয়সা পর্যন্ত বেড়েছে। গত বৃহস্পতিবার এলসি নিষ্পত্তি হয়েছিল ১২৩ টাকা ৫ পয়সা দরে।
শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি ব্যবসায়িক গ্রুপ জানিয়েছে, সোমবার এলসি সেটেলমেন্ট করতে তাদের ১২৩ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ১২৩ টাকা ৪০ পয়সা পর্যন্ত ব্যয় করতে হয়েছে।
ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডলারের দর বাড়ার পেছনে মূলত দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, প্রবাসী আয় বাড়লেও রপ্তানি কমে যাওয়ায় ডলারের সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেড়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চে রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ দশমিক ০৭ শতাংশ কমে ৩৪৫ কোটি ডলারে নেমে এসেছে, যেখানে এক বছর আগে ছিল ৪২৫ কোটি ডলার।
দ্বিতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কায় ফরওয়ার্ড বুকিং বেড়েছে। এতে ভবিষ্যতের আমদানি ব্যয়ের ঝুঁকি কমাতে ব্যবসায়ীরা আগাম ডলার বুকিং করছেন, ফলে বাজারে চাহিদা আরও বেড়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত এক ব্যাংকের কর্মকর্তা জানান, জ্বালানি তেলের এলসি খোলা বেড়েছে এবং সেগুলো ফরওয়ার্ড বুকিংয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হচ্ছে, যা ডলারের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, রপ্তানি কমে যাওয়ায় ডলারের সরবরাহ তুলনামূলক কম, কিন্তু আমদানি চাহিদা থাকায় বাজারে চাপ তৈরি হচ্ছে।
বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরাসরি ডলার কিনছে না। তবে চলতি অর্থবছরে নিলামের মাধ্যমে সাড়ে ৫ বিলিয়নের বেশি ডলার কেনা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের দর একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে চায়, যেখানে উচ্চ সীমা ১৩০ টাকা এবং নিম্ন সীমা ১২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এমএস/